Monday, 23 December 2024

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা তদন্তে কমিশন গঠন

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা তদন্তে কমিশন গঠন


তানিয়া চৌধুরীঃ  সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে পিলখানার বিজিবি সদরদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আপনারা সব সময় চেয়েছেন বিডিআর একটা কমিশন হোক। রোববার রাতে কমিশনটিতে প্রধান উপদেষ্টা সই করে দিয়েছেন। কমিশনের সদস্য সংখ্যা সাতজন।


কমিশনে রয়েছেন- বিজিবির সাবেক মহাপরিচালক এ এল এম ফজলুর রহমান, তিনিই এ কমিশনের সভাপতি। তার সঙ্গে আরও থাকবেন সামরিক বাহিনীর দুজন সদস্য, সিভিল সার্ভিসের একজন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থাকবেন। রোববার কুমিল্লায় একজন মুক্তিযোদ্ধাকে হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতকারী সব জায়গায় রয়ে গেছে। যে দুষ্কৃতকারীরা তাকে হেনস্তা করেছে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরই মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছি। এক্সট্রা অডিশন করার জন্য, এটা প্রক্রিয়াধীন। কোন উপায়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে ভারতের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী হবে। সম্প্রতি ৬০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুই মাসে নয় বরং গত দেড়-দুই বছরে দেশে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। আমরা রোহিঙ্গাদের আর কোনো অবস্থাতেই প্রবেশ করতে দেবো না।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে বর্ডার (সীমান্ত) আছে সেটি পুরোটাই আরাকান আর্মির দখলে চলে গেছে। এখন আমাদের বিজিবির সঙ্গে কথা বলার অবস্থা ছিল সেটি নেই। তাদের (আরাকান আর্মি) সঙ্গে এখন অফিসিয়াল কথা বলার সুযোগ নেই। আমরা চেষ্টা করছি, যতদ্রুত সম্ভব এ সমস্যা (রোহিঙ্গা) সমাধানের রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমি ডিটেইলস (বিস্তারিত) বলতে পারবো না, আপনারা (সাংবাদিক) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জিজ্ঞেস করতে পারেন তারা ভালো বলতে পারবেন

দখল নয়, ইসলামী ব্যাংক মায়ের কোলে ফিরে এসেছে: জামায়াত আমির

দখল নয়, ইসলামী ব্যাংক মায়ের কোলে ফিরে এসেছে: জামায়াত আমির

    

নীলফামারীর প্রতিনিধিঃ জামায়াতে ইসলামী ব্যাংক দখল করেনি, বরং এই ব্যাংক তার মায়ের কোলে ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।রোববার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে নীলফামারীর সৈয়দপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক দখল নিয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ৫ আগস্টের পর নতুন ডাকাতরা ব্যাংক দখল করতে চেয়েছিল, তবে তারা পালিয়ে গেছে। জামায়াতে ইসলামী ব্যাংক দখল করেনি, বরং এই ব্যাংক তার মায়ের কোলে ফিরে এসেছে।

জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় গেলে কারও ওপর জোর করে পর্দা প্রথা চাপিয়ে দেবে না জামায়াতে ইসলামী। এমন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হবে যেখানে নারীরা আপন ইচ্ছায় পর্দা করবে। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই যে দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না। সব ধর্মের সব বর্ণের মানুষ মিলেমিশে সমান অধিকারের ভিত্তিতে বসবাস করবে। সর্বক্ষেত্রে দেশাত্ববোধের মাধ্যমে দেশকে উন্নত করতে সচেষ্ট থাকবে। কোনো চাঁদাবাজ, দুষ্কৃতকারী, দুর্নীতিবাজ থাকবে না। কেউ কোনোভাবে অন্যায়ের শিকার হবে না।

জামায়াতের আমির বলেন, দেশকে আমরা সাজানো বাগান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য সবার ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলে অর্থনৈতিকভাবে শেষ করে দেওয়া দেশকে আবার সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। কৃষকরা ফসল ফলাবে দেশকে সহযোগিতা করতে এবং দেশের মান উন্নত করতে। কোনো ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তার প্রতিষ্ঠান কেড়ে নেওয়া হবে না। কাউকে জুলুমের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা হবে না। শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সর্বক্ষেত্রে সমান্তরাল সমৃদ্ধ করে জাতিকে সাজানো বাগানের মতো দেশ উপহার দেব ইনশাআল্লাহ।

শফিকুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা চুরি করে দেশে না রেখে সব কিছু পাচার করে দিয়েছে। খোকলা করে ফেলেছে দেশের অর্থনীতিকে। বিকিয়ে দিয়েছে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব। অথচ চোরের মায়ের ডাঙর গলার মত করে তারা স্বাধীনতার ঠিকাদার সেজে চেতনার নামে জাতিকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে সব লুটে পুটে নিজেদেরকে পুষ্ট করেছে। কিন্তু তাদের চেতনাবাজি নতুন প্রজন্মের কাছে ধরা পড়ে যাওয়ায় তাদের শুধু পতনই ঘটায়নি, দেশ থেকেই বিতাড়িত করেছে। এর আগে রোববার (২৯ ডিসেম্বর) শেরেবাংলা নগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, পাঁচ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংকগুলো একটি রাজনৈতিক দল দখল করে নিয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, উপদেষ্টাদের প্রায় অনেকেই সবক দেন, দু-একটি দলও সবক দেয় যে, চাঁদাবাজ বিদায় হয়েছে, আর কোনো চাঁদাবাজ আমরা দেখতে চাই না। চাঁদাবাজ না আসুক, এসব কাদের উদ্দেশ্য করে বলছেন? রিজভী বলেন, আমরা তো প্রথমেই দেখলাম ৫ আগস্টের পরদিনই ইসলামী ব্যাংক দখল করেছে, এটি কি জনগণ দেখেনি? এটা তো দেখেছে জনগণ। আজকে বড় বড় কথা বলেন। কলঙ্ক লেপন করার চেষ্টা করেন বিএনপির নামে। জেলায় জেলায় টার্মিনাল দখল, সিএনজি স্ট্যান্ড দখল, টেন্ডার ভাগাভাগির মধ্যে কি আপনাদের লোকরা জড়িত নয়? জামায়াতের নাম না নিয়ে রিজভী আরও বলেন, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছেন। আপনাদের ৭১ এর অর্জন কী? আপনারা ৭১ এর বিরোধিতা করেছেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছেন, এই গৌরব বিএনপির। ৭১, ৯০ এর গৌরব বিএনপির।

Wednesday, 18 December 2024

ময়মনসিংহের ত্রিশালে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু

ময়মনসিংহের ত্রিশালে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু


স্টাফ রিপোর্টারঃ আর.জে মিজানুর রহমান ইমনঃ ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ । নিহতের পরিবারের দাবী স্বামীর পরকিয়ার প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যা করা হয়েছে । গত রোববার রাত ১১ টায় এ ঘটনা ঘটলেও পুলিশ সোমবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে । নিহতের পরিবার ও ত্রিশাল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়,ত্রিশাল উপজেলার সাখুয়া ইউনিয়নের নগরচড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে ট্রাক চালক রাসেল মিয়া(২৫) গত কয়েক মাস আগে নান্দাইল উপজেলার চরলক্ষী গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে হ্যাপী আক্তার(২০)কে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন । 

বিয়ের পর রাসেল একটি হিন্দু মেয়ের সাথে পরকিয়া সর্ম্পকে জড়িয়ে পড়েন । এ নিয়ে তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না এবং  তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো । গত রোববার রাতে হ্যাপী আক্তারের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন পুলিশকে খবর দেয় ।

পুলিশ সকালে এসে নগরচড়া গ্রামে রাসেলের বাড়ী থেকে মরদেহ উদ্ধার করে । এ ঘটনার পর থেকে স্বামী রাসেল পলাতক রয়েছে । ত্রিশাল থানার এস আই তানভীর হোসেন জানান, আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি। কি কারণে বা কিভাবে মৃত্যু হয়েছে তা তদন্ত না করে বলা যাবে না । মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে ।
ছেলেকে কারাগারে প্রেরণ খবর পেয়ে বাবার মৃত্যু

ছেলেকে কারাগারে প্রেরণ খবর পেয়ে বাবার মৃত্যু

 

সাদিয়া আক্তার : ঢাকা প্রতিনিধি : ঢাকার ধামরাইয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় তুলে নেয়ার পর একরাতেই ৫ মামলা দেয়া হয় সোহাগ হোসেনসহ মাখুলিয়া গ্রামের ১৭ জনের নামে। পরে মামলার কারাগারে পাঠানো হয় সবাইকে। এই খবর পাওয়ার সাথে সাথেই স্ট্রোক করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন আবুল কালাম (৫৭) নামে এক পিতা। রোববার (৮ আগস্ট) রাতে সোহাগ হোসেন এর ওই পিতা মারা যান। মৃত্যুবরণকারী পিতা আবুল কালাম ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের মাখুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

এলাকাবাসী ও আবুল কালামের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছেলে সোহাগকে নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করছিলো আবুল কালামের পরিবার। সংসারের খরচ চালাতে কষ্ট হয় বলে কিছুদিন আগে ছেলেকে পার্টটাইম চাকরী দেয় স্থানীয় একটি আবাসন প্রকল্পের কর্তৃপক্ষ। চাকরি পেয়ে অর্থনৈতিক সুদিন ফেরে তার পরিবারে। তবে এই চাকরিতে ঈর্ষান্বিত ছিলেন এলাকার চিন্হিত অপরাধী চক্র। অপরাধী চক্রের মূলহোতা বদরুল ওরফে খাস বদু, রমজান, সাইদুর, মনসুর, ভঞ্জন ও পলান গং। জোড় করে ওই প্রকল্পের জমি ও বালু ব্যবসা দখলে নেওয়ার চেস্টা করে তারা। এতে বাঁধা দেয়ায় গত ৩রা আগস্ট প্রকল্পের ৪ কর্মকর্তা ও ড্রেজারের ১৩ কর্মচারীদের নামে একরাতে করে ৫টি মামলা দেয় চক্রটি। সেদিনই গ্রেফতার হয় আবুল কালামের ছেলে সোহাগসহ ১৪ জন। শুনানির পর সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়। এই খবর শুনতে পেরেই স্ট্রোক করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন পিতা আবুল কালাম।

স্থানীয় কুল্লা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ বাবুল বলেন, নিরীহ এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান সোহাগ। এলাকায় সে ভদ্র ছেলে হিসাবে পরিচিত। কোনদিন তার নামে একটা জিডিও হয়নি। হঠাৎ করে কিছু অসাধু চক্রের দেয়া একরাতে ৫ টি মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকাবাসী বিস্মিত এবং হতবাক। এ মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে তারা।

মৃত্যুবরণকারী পিতার আরেক ছেলে বলেন, 'ছোট ভাইয়ের জন্যে চিন্তা করে করে আব্বা মারা গেল। এই মামলার জন্যে এরকম হল। দুপুরে জানাজা দেয়া হবে আব্বার। এখন আমার ভাইটা আব্বারে দেখতে পারবে কি না তাও জানি না। এই মামলার জন্যে আমাদের পরিবার এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে দাড়িয়ে গেল। এরসঙ্গে জড়িতদের বিচার চাই আমরা।' এ বিষয়ে জানতে কুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কালীপদ সরকারকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) আতিক রহমান বলেন, 'বিষয়টি শুনছি। একজন ফোন করে জানিয়েছে। যদি এলাকায় থেকে থাকে তাহলে তাকে শেষ দেখা দেখার ব্যবস্থা করা হবে।'
নাটোর লালপুরে বাবার উপর অভিমানে করে মেয়ের আত্মহত্যা

নাটোর লালপুরে বাবার উপর অভিমানে করে মেয়ের আত্মহত্যা

 

রাশিদুল ইসলাম, নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের লালপুরে স্মৃতি(১৫) নামের ৯ম শ্রেণীর এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মৃত স্মৃতি উপজেলার বড় ময়না গ্রামের মোঃ আমিরুল ইসলামের মেয়ে আজ সোমবার (৯ আগষ্ট) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ওয়ালিয়া ইউনিয়নের বড় ময়না গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। 

থানা ও পারিবারিক সূত্রে  জানা গেছে-সোমবার সকালে স্মৃতি খাতুন তার বাবার কাছ থেকে নতুন মোবাইল না পেয়ে বাবার উপর অভিমানে বাড়ীর সদস্যদের অঘোচরে ঘরের তীরের সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন থানা পুলিশ কে খবর দিলে লালপুর থানার পুলিশ এস আই কুষ্ণ মোহন সরকার ঘটনা স্থলে এসে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনায় লালপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
খুলনায় বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র গ্রেপ্তার

খুলনায় বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র গ্রেপ্তার

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনায় বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করে তৈরি করা টিকটক ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করায় এস এম তানজির হোসেন (২৫) নামে এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ০৯ আগস্ট সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর সদর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল-মামুন বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি রণবীর বাড়ই সজলের দায়ের করা মামলায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উক্ত মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০ টাকার ওপর ছাপা বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করে তৈরি করা টিকটকের একটি ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন তানজির।
নরসিংদীতে মাইক্রোবাসে যুবতীকে পালাক্রমে ধর্ষণ: ৩ ধর্ষক গ্রেফতার

নরসিংদীতে মাইক্রোবাসে যুবতীকে পালাক্রমে ধর্ষণ: ৩ ধর্ষক গ্রেফতার

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ নরসিংদীতে এক যুবতি (২০) শ্রমিককে মাইক্রোবাসের ভেতরে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগে তিন ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় ধর্ষনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও জব্দ করে নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৭ আগষ্ট) সন্ধ্যায় নরসিংদী শহরতলীর চিনিশপুর পশ্চিমপাড়ার বেলতলা এলাকায় এই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ধর্ষিতা ওই যুবতির অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে নরসিংদী শহরের বিভিন্ন স্থান হতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হল- কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার গুজাদিয়া এলাকার মোমেন মিয়ার ছেলে বর্তমানে নরসিংদী শহরের বাসাইলের বাসিন্দা মিজান মিয়া ওরফে আরিয়ান (২০), নরসিংদী শহরের বাসাইল মহল্লার রহমত উল্লাহর ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৪) ও জেলার পলাশ থানার ধানইর চর এলাকার ইদ্রিস মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া (২৪)।উল্লেখ গ্রেফতারকৃত সোহেলের বিরুদ্ধে নরসিংদী শিবপুর ও পলাশ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। সে দীর্ঘদিন যাবত মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলেও এলাকাবাসী জানান।

বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইনামুল হক সাগর জানান, পঞ্চগড় জেলার ওই যুবতি শহরের সাটিরপাড়া মহল্লার কুমিল্লা কলোনী এলাকায় বসবাস করে পাওয়ারলুমের শ্রমিকের কাজ করেন। মোবাইল ফোনে কথা বলার সুবাদে পূর্ব পরিচিত মিজান তার মায়ের সাথে ওই যুবতিকে পরিচয় করিয়ে দিবে সেই সাথে পাত্রি মাকে দেখানোর কথা বলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে শহরের ভেলানগর এলাকায় ডেকে নেয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অটোরিকশা যোগে বেলতলা এলাকায় নিয়ে যুবতিকে একটি সাদা রংয়ের মাইক্রোবাসে উঠায়। এসময় মিজান ও গাড়িতে থাকা তার দুই সহযোগী সাইফুল ও সোহেল তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে তিন ধর্ষক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। 

এ ঘটনায় রাতেই নরসিংদী সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ধর্ষণের শিকার যুবতি। পরে পুলিশ ধর্ষকদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে থান পুলিশ। ধর্ষিতার দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় নরসিংদী শহরের বিভিন্ন স্থান হতে অভিযুক্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।এসময় ঘটনায় ব্যবহৃত সাদা রংয়ের মাইক্রোবাস উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বুধবার বিকালে আদালতে পাঠানো হলে অভিযুক্ত মিজান ও সোহেল ঘটনায় জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে জবানবন্দি প্রদান করেছে।
ভিপি নুরুল'কে পটুয়াখালী-৩ আসনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ বিএনপির

ভিপি নুরুল'কে পটুয়াখালী-৩ আসনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ বিএনপির

 


নাহিদ হাসানঃ বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. নুরুল হককে (ভিপি নুর) তাঁর সংসদীয় এলাকা পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে দলীয় নেতা–কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। ২২ অক্টোবর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর সংসদীয় এলাকায় (পটুয়াখালী-৩, গলাচিপা-দশমিনা) জনসংযোগ ও তাঁর দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য আপনাদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকার থানা, উপজেলা বা পৌরসভায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীদের বিষয়টি অবহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করতে আপনাদের অনুরোধ করা হচ্ছে। এই আদেশ অতীব জরুরি।’

এই নির্দেশনা নিয়ে বিএনপিসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির নেতা–কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নুরুল হকের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর বিশ্বাস ইউনিয়নে। ফলে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে তাঁর নির্বাচন করার গুঞ্জন চলছে দীর্ঘদিন ধরে। অপর দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. হাসান মামুনের বাড়ি দশমিনা উপজেলা সদরে। তিনি পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি মনোনয়নে নির্বাচন করার জন্য দীর্ঘদিন থেকে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

সোমবার চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব স্নেহাংশু সরকার চিঠি পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এই চিঠির বিষয়ে ঢাকায় যোগাযোগ করে তা পরে জানানো হবে।

নতুন বছরে আসতে পারে কাজল আফরিন আমি'র "ব‍্যাচেলর পয়েন্ট" সিজন-৫

নতুন বছরে আসতে পারে কাজল আফরিন আমি'র "ব‍্যাচেলর পয়েন্ট" সিজন-৫

  

বিনোদন প্রতিবেদকঃ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে আসা কয়েকজন তরুণের ব্যাচেলর লাইফ নিয়ে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিরিয়াল নির্মাণ করে তুমুল জনপ্রিয়তা পান কাজল আরেফিন অমি। দর্শকদের চাহিদার কারণে একে একে চারটি সিজন নির্মিত হয়। 

ব‍্যাচেলার পয়েন্ট, পরিচালক কাজল আফরিন অমির পেইজ থেকে ফাইভ লিখে পোস্ট দিলে শুধু সেখানেই লক্ষাধিক লাইক পরে। মন্তব্য দেখা যায় ৩৩ হাজারের বেশি। শেয়ার হয় প্রায় পাঁচ হাজার। বেশীরভাগ দর্শক চাইছেন ফান কমেডি গল্পে ব্যাচেলর পয়েন্টের নতুন সিজন। দুই বছর আগে সিজন ফোর শেষ হলেও নির্মাতাকে প্রতিনিয়ত নতুন সিজনের জন্য তাগিদ দিতে থাকেন দর্শক। ঘুরে ফিরে প্রশ্ন ছিল একটি, কবে আসবে সিজন ফাইভ। অবশেষে দর্শকদের চাওয়া পূরণ হতে যাচ্ছে। নিজের ফেসবুক স্ট্যাট্যাসে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ফাইভ নির্মাণের ইঙ্গিত দিলেন অমি। সঙ্গে এই সিরিয়াল নির্মাণ সংশ্লিষ্টরা একসঙ্গে ফেসবুকে ফাইভ লিখে পোস্ট দেন।

ফাইভ লিখে নিজের ফেসবুকে কিসের ইঙ্গিত দিলেন অমি? অনেকটা রহস্য রেখে, এক্সপোস নিউজ অনলাইনকে তিনি জানালেন, ব্যাচেলর পয়েন্ট ফাইভ বানাতে পারি, আবার ফিমেল ফাইভও বানাতে পারি। কোনটি আগে বানাবো সেটি কিছুদিন পর জানাবো। তবে দর্শক যেটা বেশি চাইবে সেটা আগে বানাবো।  দুই বছর আগে সিজন ফোর শেষ হলেও নির্মাতাকে প্রতিনিয়ত নতুন সিজনের জন্য তাগিদ দিতে থাকেন দর্শক। ঘুরে ফিরে প্রশ্ন ছিল একটি, কবে আসবে সিজন ফাইভ। অবশেষে দর্শকদের চাওয়া পূরণ হতে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৫ সালে আসতে পারে সুখবর। সেই পর্যন্ত দর্শকদের অপেক্ষা করতে বললেন নির্মাতা কাজল আফরিন অমি ।

৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল হক ভি.পি নূর

৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল হক ভি.পি নূর

 

এক্সপোস নিউজ অনলাইনঃ মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে পটুয়াখালীর গলাচিপায় নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে ঢাকা থেকে যাওয়ার সময় বরিশাল নগরীর চৌমাথায় জমায়েত হওয়া নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, গণঅধিকার পরিষদ আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির সভাপতি ও ডাকসু সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, আমরা বিএনপির সঙ্গে কোনো জোট করিনি। আমরা কোনো সংসদীয় আসন ভাগাভাগি বা জাতীয় সরকার গঠন করব না।

এর আগে গত মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী চিঠি দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের পটুয়াখালী-৩ আসনে (গলাচিপা-দশমিনা) নুরুল হক নুরকে জনসংযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দেন। এই চিঠি প্রকাশ পাওয়ার পর পটুয়াখালীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

নুরুল হক নুর বলেন, আমরা সকল রাজনৈতিক দল একত্র হয়ে হাসিনাবিরোধী আন্দোলন করেছি। কিন্তু আন্দোলন পরবর্তী সময়ে বিএনপি আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রমে বাধা প্রদান করছে। এ অবস্থায় আমরা দলের হাইকমান্ডকে জানিয়েছি, তাই বিএনপি থেকে প্রেস রিলিজ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করার কথা বলা হয়েছে। সময় বরিশাল মহানগর গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, সিনিয়র সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম সাগর, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন তালুকদার ফয়সাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ ফরাজি, মহানগর ছাত্রঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান রোকন, মহানগর যুবঅধিকার পরিষদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমাম হোসেন, শ্রমিকঅধিকার পরিষদের ইলিয়াস মিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাজারে আসছে ইলন মাস্কের "পাইফোন" সিম ও চার্জ ছাড়াই এবার স্মার্টফোন

বাজারে আসছে ইলন মাস্কের "পাইফোন" সিম ও চার্জ ছাড়াই এবার স্মার্টফোন

 


তথ‍্য প্রযুক্তি ডেস্কঃ সত‍্যিই জানলে অবাক নেই সিম, নেই চার্জ দেওয়ার ঝামেলা, বাজারে আসতে চলেছে নতুন ২৫ হাজার টাকার স্মার্ট ফোন। তা-ও আবার সেটা পৃথিবীর শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্কের টেসলার স্মার্ট ফোন। ইলন মাস্কের কথা হয়তো অনেকেই শুনেছেন। তিনি একজন প্রযুক্তিপ্রেমী। সবসময় উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রকাশ্যে আনেন।

এরই ধারাবাহিকতায় নতুন ধরনের এই ফোন নিয়ে কাজ করছেন ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান। এই ফোনের নাম পাইফোন। শোনা যাচ্ছে আইফোনকে টেক্কা দিতে পাইফোন আনছে টেসলা ও স্পেস এক্সের এই কর্ণধার জানলে অবাক হবেন ইলন মাস্কের পাইফোন চার্জ দিতে হবে না। এমনকি এই ফোন চালাতে লাগবে না সিমও। ধারণা করা হচ্ছে এই ফোন বাজারে আসলে স্মার্টফোনের ধারণাটাই পাল্টে দেবে। পাইফোন নিয়ে কয়েক মাস ধরে এমনই জল্পনায় সরগরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। পাইফোনের বেশ কিছু ভিডিও ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। সৌর শক্তি থেকে বিদ্যুৎ তৈরির প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে চার্জিং ফেসিলিটি থাকলেও এই ফোন নাকি সূর্যের আলো ছাড়া সাধারণ আলোতে রাখলেও চার্জ হবে। প্রয়োজন হবে না কোনো ইন্টারনেটেরও।

পাইফোনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো চার্জিং। আইফোন হোক বা স্মার্ট ফোন, চার্জ দিতে হলে বিদ্যুৎ লাগবেই। তবে নতুন এই স্মার্ট ফোনে আর তার প্রয়োজন নেই। স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চার্জ হবে ফোন। কেবল আলো পেলেই হবে। কারণ, ইলন মাস্কের স্টারলিঙ্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে পাইফোন। স্টারলিঙ্কের নিজস্ব একটি বিশ্বব্যাপী কভারেজ নেটওয়ার্ক রয়েছে। আসলে স্টারলিঙ্ক হলো স্যাটেলাইট বেস কানেকশন সিস্টেম।

শোনা যাচ্ছে, এই ফোনের মধ্যে থাকবে ব্রেন কানেকটিভিটি চিপ। যার ফলে আপনি যা ভাববেন, আপনার ফোন তা বুঝে সেই অনুযায়ী কাজ করবে। এই ফোন দিয়ে চালানো যাবে টেসলার গাড়িও। পাইফোনের দামও নাকি থাকবে মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে। কিন্তু ভাইরাল ভিডিওর আদৌ সত্যতা আছে? নাকি পুরোটাই গুজব। হ্যাঁ, পুরোটাই গুজব। ভাইরাল ভিডিওর এক বিন্দু সত্যতা নেই। ইলন মাস্ক নিজেই পাইফোনকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সাফ বলে দিয়েছেন, ‘আমরা এরকম কোনো ফোন তৈরি করছি না।’


তাহলে এমন গুজব ছড়াল কেন? এর পেছনেও রয়েছেন ইলন মাস্ক। না, সরাসরি নয়, তবে পরোক্ষভাবে। গত বছর ‘অল্টারনেটিভ ফোন’ নিয়ে কিছু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ধনকুবের। তারপর থেকেই টেসলা এমন ফোন আনতে পারে বলে জল্পনা ডালপালা মেলে। সোশ্যাল মিডিয়াতেই ফোনের রূপরেখা তৈরি করে ফেলেন অতিউৎসুক নেটিজেনরা।
বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেন জাপান

বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেন জাপান

  

বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে তাদের অবস্থান অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ীসাক্ষাৎকালে জাপানি রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।

রাষ্ট্রদূত কিমিনোরি অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, জাপান সরকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক- এই তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করবে।

কিমিনোরি বলেন, ‘আমরা এই তিনটি স্তম্ভের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’ তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্বাচনী ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সংস্কার কার্যক্রমে টোকিওর ‘দৃঢ় সমর্থনের’ কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। অধ্যাপক ইউনূস উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে অবদান রাখায় জাপানের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের প্রশংসা করে বলেন, ‘এই সম্পর্ক সবসময় খুব শক্তিশালী ছিল।’

সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি আমাদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ থেকে জাপানি কোন কোম্পানিও চলে যায়নি। তারা এখানে থাকতে আগ্রহী।’রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টার পদক্ষেপের প্রশংসা করে জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, টোকিও এই বৈঠককে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। অধ্যাপক ইউনূস মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘের গ্যারান্টিযুক্ত একটি নিরাপদএলাকা তৈরির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে সংঘাত শেষ হওয়ার পর বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে তাদের বাড়িতে ফেরার পূর্বে সাময়িকভাবে পুনর্বাসিত করা যেতে পারে।

তিনি নিক্কেইয়ের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, ওই সম্মেলনে অধ্যাপক ইউনূস জাপানের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন এবং তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাতে পারবেন।

পিলখানা বিডিআর হত্যা তদন্তে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দিয়ে দামাচাপা দিচ্ছে সরকার

পিলখানা বিডিআর হত্যা তদন্তে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দিয়ে দামাচাপা দিচ্ছে সরকার

 


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ ঘটনায় প্রথমে রাজধানীর লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। পরে এসব মামলা নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তরিত হয়। সিআইডি দীর্ঘ তদন্ত শেষে হত্যা মামলায় ২৩ বেসামরিক ব্যক্তিসহ প্রথমে ৮২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে । 

এ ছাড়া বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় ৮০৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। পরে আরও ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে মোট ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়া হয়। বিচার চলাকালে তৎকালীন বিডিআরের ডিএডি রহিমসহ চার আসামির মৃত্যু হয়। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী এ বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাখা হয় রক্তক্ষয়ী ওই বিদ্রোহের ।

এই প্রেক্ষাপটে, রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান।গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিডিআর হত্যার পুনঃতদন্তের দাবি ওঠে। তখন বিডিআর হত্যার পুরো ঘটনার তদন্তে কমিশন গঠনের কথা জানায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 ২০০৪ সালে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় বাবর সহ ৬ জন খালাস, ভারতের পরেশ বড়ুয়ার যাবজ্জীবন

২০০৪ সালে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় বাবর সহ ৬ জন খালাস, ভারতের পরেশ বড়ুয়ার যাবজ্জীবন

 


বিশেষ প্রতিবেদক, সুমনা ইসলামঃ ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় ১০ ট্রাকভর্তি অস্ত্রের চালান। এ নিয়ে কর্ণফুলী থানায় অস্ত্র আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের অভিযোগ এনে দুটি মামলা হয়। মামলায় ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় দেন। 

এর মধ্যে অস্ত্র চোরাচালান মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী (অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর), সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া এবং দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৪ জনকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। অস্ত্র আইনে করা অন্য মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ হয় একই আসামিদের।

চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনায় করা মামলায় মৃত্যুদণ্ড থেকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরসহ ছয়জন খালাস পেয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয় আসামির সাজা কমিয়ে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ওই মামলায় ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আসামিদের আপিলের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এ রায় দেন ।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রায়সহ মামলার নথিপত্র হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছে, যা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। অন্যদিকে কারাগারে থাকা দণ্ডিত আসামিরা সাজার রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে হাইকোর্টে পৃথক আপিল করেন।
এক সময়ের পর্দা কাপানো জনপ্রিয় অভিনেত্রী নায়িকা শাবনূরের বর্তমানে যেভাবে কাটছে দিন

এক সময়ের পর্দা কাপানো জনপ্রিয় অভিনেত্রী নায়িকা শাবনূরের বর্তমানে যেভাবে কাটছে দিন

 

বিনোদন প্রতিবেদকঃ দীর্ঘ অভিনয়জীবনে শাবনূর অভিনয় নিয়ে যতটা প্রিয় হয়েছিলেন, নানা স্ক্যান্ডালও তাঁকে জেঁকে ধরেছিল। তবে এসবকে পাত্তাই দিতেন না ঢালিউডের এই দাপুটে নায়িকা। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে এই নায়িকা বলেন, ‘নায়িকার জনপ্রিয়তা মানে, তাঁকে নিয়ে আলোচনা হবে। সমালোচনা হবে। স্ক্যান্ডাল হবে। জনপ্রিয় তারকাকে ঘিরে গালগল্প শুনতেও ভক্ত এবং সাধারণ মানুষের ভালোই লাগে। আমি কোনো দিন স্ক্যান্ডাল নিয়ে বিচলিত ছিলাম না। আমি মনে করি, যে তারকার জনপ্রিয়তা যত বেশি, তাঁকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা–সমালোচনা থাকবে।’

১৪ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করা শাবনূর টানা দেড় যুগ এই মাধ্যমে কাটিয়ে দিয়েছেন। বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে সমসাময়িক নায়িকাদের মধ্যে ঢালিউডের সেরা আসনটি নিজের করেও নিয়েছিলেন। আজও শাবনূর চর্চিত একটি নাম। এক যুগের বেশি সময় ধরে অনিয়মিত তিনি। বিয়ে ও সংসারী হয়েছেন। থাকা হয় দেশের বাইরেও। পরিবারের সবাইকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে তাঁর জীবনযাপন। মাঝেমধ্যে ঢাকায় আসেন। গেল বছরও যেমনটা এসেছিলেন। এরপর তাঁকে নিয়ে ছবির ঘোষণাও এসেছিল।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে শাবনূর অভিনয় নিয়ে যতটা প্রিয় হয়েছিলেন, নানা স্ক্যান্ডালও তাঁকে জেঁকে ধরেছিল। তবে এসবকে পাত্তাই দিতেন না ঢালিউডের এই দাপুটে নায়িকা। 'এক্সপোস নিউজ অনলাইন' সঙ্গে আলাপে এই নায়িকা বলেন, ‘নায়িকার জনপ্রিয়তা মানে, তাঁকে নিয়ে আলোচনা হবে। সমালোচনা হবে। স্ক্যান্ডাল হবে। জনপ্রিয় তারকাকে ঘিরে গালগল্প শুনতেও ভক্ত এবং সাধারণ মানুষের ভালোই লাগে। আমি কোনো দিন স্ক্যান্ডাল নিয়ে বিচলিত ছিলাম না। আমি মনে করি, যে তারকার জনপ্রিয়তা যত বেশি, তাঁকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা–সমালোচনা থাকবে।’

শাবনূরকে নিয়ে প্রেমের গুঞ্জন কম হয়নি। তারকার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ঘিরেও গুঞ্জনের ডালপালা ছড়িয়েছিল। তবে শাবনূর আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, তিনি ২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর ব্যবসায়ী অনীক মাহমুদের সঙ্গে আংটি বদল করেন। পরের বছরের ২৮ ডিসেম্বর তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এর পর থেকেই ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রে অনিয়মিত হয়ে পড়েন শাবনূর। বিয়ের পর ভাই ও বোনদের মতো শাবনূরও স্বামী অনীককে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস শুরু করেন। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর শাবনূর-অনীক দম্পতির ছেলে আইজান নিহানের জন্ম হয়। ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি অনীক মাহমুদের সঙ্গে শাবনূর বিবাহবিচ্ছেদের খবর জানান। বর্তমানে সন্তানকে নিয়ে স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়াতেই বসবাস করছেন বাংলা চলচ্চিত্রের একসময়ের সুপারহিট এই নায়িকা।

ঢালিউডের একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূরের সময় অস্ট্রেলিয়ায় কাটে কীভাবে? ‘আমার তো ভাই-বোন-মাসহ সবাই এখন অস্ট্রেলিয়াতে থাকেন। এক যুগের বেশি সময় এখানে থাকার কারণে অনেক বন্ধুবান্ধবও জুটেছে। তাঁদের সঙ্গে আড্ডা হয়। ঘুরতে যাই। আমি নিজে ড্রাইভ করতে পছন্দ করি। বন্ধুরা ব্যস্ত থাকলে আমি ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে বের হই। তা ছাড়া আমার ছেলের স্কুল আছে, তার দেখভাল সবই আমাকে করতে হয়। ক্রিকেট ওর প্রিয় খেলা। সময় পেলে আমরা মা–ছেলেসহ অন্যরা মিলে মাঠে গিয়ে খেলা দেখি। আমার কাছে তো মনে হয়, সময় আরও কম হয়। সে হিসেবে বলতে পারি, পরিবার, সাংসারিক নানান কাজকর্ম এবং বন্ধুবান্ধব মিলে সময়টা দারুণ কাটে।’ বলেন শাবনূর।

নতুন করে সংসার শুরুর কোনো পরিকল্পনা আছে কি? ‘এ ধরনের কোনো চিন্তা আপাতত নেই। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়া যেকোনো নারীর সুখকর অভিজ্ঞতা নয়। তাই স্বামীকে ডিভোর্স দিতে হয়েছে আমার। অনেকে মনে করেন, একবার কারও প্রতারণার শিকার হলে আর কোনো পুরুষ মানুষকে বিশ্বাস বা বিয়ে করা যায় না। এটি ভুল ধারণা। ভালো–মন্দ পৃথিবীর সবকিছুতেই আছে। তাই বলে ভালো মানুষ যে আর পাওয়া যাবে না, তা কিন্তু নয়। তবে বিয়ে নিয়ে আমার আপাতত আগ্রহ না থাকার পেছনে আমার সন্তান। আইজানকে মানবিক মূল্যবোধের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাটাই আমার আপাতত স্বপ্ন, চিন্তা। ওর বেড়ে ওঠার এ সময়টায় আমাকে সবচেয়ে বেশি দরকার।’ বললেন শাবনূর। জীবনের ৪৫ বছর পেরিয়ে আজ ৪৬–এ পা দিলেন নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর। আজও পরিচালকেরা তাঁকে নিয়ে ভিন্ন রকম গল্পের চিন্তাভাবনা করেন। বছরের পর বছর জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এই নায়িকার বিশেষ দিনটি ঘিরেও ভক্ত–শুভাকাঙ্ক্ষীর থাকে উৎসাহ ও উন্মাদনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্লভ সব স্থিরচিত্র ও ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করেন। লেখা হয় নানান কথা। এসবে শাবনূর অনুপ্রাণিত হন। ভালোবাসা নতুন করে উপলব্ধি করেন।

শাবনূর বললেন, ‘সবাই আমাকে এখনো এতটা ভালোবাসে, এই দিনে সেটা আবার নতুন করে উপলব্ধি হয়। রাত ১২টা বাজতে না বাজতেই ফোনে এসএমএস আসে, অনেকে কথাও বলে। ফেসবুকে কত সুন্দর সুন্দর কথা লেখে। সহকর্মীদের ভালোবাসায়ও আমি মুগ্ধ। কেউই আমাকে বুঝতে দেয় না, অনেক দিন কাজে নেই। দেশের মানুষের মনে শাবনূর হয়ে জায়গা করতে পেরেছি। সবাই আজও নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে, এর চেয়ে বড় অর্জন আর কীই-বা হতে পারে। ফেলে আসা জীবনের দিকে তাকালে দেখতে পাই, আমি যা চেয়েছি, তার চেয়ে অনেক বেশি পেয়েছি। মানুষের এই ভালোবাসা আমাকে আপ্লুত করে।’

বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়দক্ষতা শাবনূরকে দর্শকমনে জায়গা যেমন দিয়েছে, তেমনি নায়িকাদের কাছেও আদর্শ করে তুলেছে। এ প্রজন্মের নায়িকাদের কেউ কেউ তাই চলচ্চিত্রে তাঁদের অনুপ্রেরণা হিসেবে শাবনূরের নামটিই বলে থাকেন। ১৯৭৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর শাবনূরের জন্ম যশোরের শার্শা উপজেলায়, তাঁর বাবার নাম শাহজাহান চৌধুরী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে শাবনূর বড়। শাবনূরের ছোট বোনের নাম ঝুমুর, ভাই তমাল। পারিবারিকভাবে শাবনূরের নাম রাখা হয় কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর। পরে কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর নামটি পাল্টে চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশাম রাখেন শাবনূর। ১৯৯৩ সালে এই পরিচালকের ‘চাঁদনী রাতে’ ছবির মাধ্যমে ঢালিউডে পথচলা শুরু হয় তাঁর।